শেয়ার বাজার

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় স্বজন প্রীতির অভিযোগ
প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত শাল্লায় প্রতিবাদ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত শাল্লায় প্রতিবাদ মিছিল

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ফসলহানির শিকার কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিয়ে শাল্লা উপজেলায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তালিকা প্রণয়নে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ এনে বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ২ নম্বর হাবিবপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সুব্রত দাসের নেতৃত্বে ক্ষুব্ধ কৃষকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে বাধার মুখে তারা মিছিল নিয়ে হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অকৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগের তীর ২ নম্বর হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবলু মেম্বারের দিকে। তাদের দাবি, তালিকা প্রস্তুতের সময় যোগ্য কৃষকদের উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলার ৪ নম্বর শাল্লা ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল হাই মেম্বারের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবলু মেম্বার বলেন, “সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, “যদি কোনো প্রকৃত কৃষকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে কিংবা অযোগ্য কেউ তালিকাভুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এখনও তালিকা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।”

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করে তালিকা চূড়ান্ত করা এবং সরকারি সহায়তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা হোক।

“রাতের আঁধারে ইজারা বাণিজ্য: ৬১ লাখ টাকার কাজ গেল আ.লীগ নেতার ঘনিষ্ঠের হাতে!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬

“রাতের আঁধারে ইজারা বাণিজ্য: ৬১ লাখ টাকার কাজ গেল আ.লীগ নেতার ঘনিষ্ঠের হাতে!

স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের গোয়াইনঘাটের পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের ৬১ লাখ টাকার ইজারা রাতের আঁধারে মোটা অংকের টাকায় আওয়ামী লীগ নেতা রমজান আলীকে দেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যান মামুন পারভেজের উপর| গোয়াইনঘাটে উপজেলার প্রভাবশালী মহল, প্রশাসনের সাথে রয়েছে সখ্যতা আওয়ামী লীগ নেতা রমজান আলীর| কামাল উদ্দিনের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ০২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন পারভেজ, রমজান আলী, কবির আহমদ, ফারুক আহমদ, কাওছার আহমদ, নাহিদ আহমদ, মাহিন আহমদ উশৃঙ্খল ও দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির লোক| বিভিন্ন লোকজনদেরকে ফাঁদে ফেলে টাকা আত্মসাৎ করাই তাদের একমাত্র পেশা| তারা ˆ¯^রাচার আওয়ামীলীগের গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন অংঙ্গ সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ও প্রভাবশালী নেতা ছিলেন|

গত ২৬ এপ্রিল জাফলং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় কর্তৃক স্মারক নং- প/জা/ইউপি ২০২৬/৪২ মূলে সর্ব সাধারণের জ্ঞাতার্থে ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন বালি পরিবহনকারী গাড়িও পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের সীমানার মধ্যে বালি পরিবহনকারী ইঞ্জিন নৌকার উপর ইউনিয়ন উন্নয়ন কর হিসাবে ইজারা প্রদান করার লক্ষ্যে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি জারি করেন| দরপত্র জারির পর প্রায় ৪০ জনের মত ব্যক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্টানের নামে অফেরতযোগ্য ১ হাজার টাকা ফি প্রদানের মাধ্যমে দরপত্র দাখিল করেন| দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৯ এপ্রিল বুধবার দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ও সময়/ দরপত্র খোলার সময় দেওয়া হয়| আবার একই দিন দুপুর সাড়ে ১২ ঘটিকার সময় সর্বোচ্চ দরদাতা / ইজারাদারের নাম ঘোষণা করার কথা জানানো হয়| গত ২৯ এপ্রিল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান মামুন পারভেজের অফিস কক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা রমজান আলী, এনাম আহমদ সহ অন্যান্য দরপত্র আহবানকারীদের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে বর্ণিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ইজারা সর্বোচ্চ ইজারাদার হিসাবে শাহরিয়ার তামিম উজ্জ্বলকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয়| শাহরিয়ার তামিম উজ্জ্বল ৬১ লাখ টাকার বিনিময়ে ইজারা প্রাপ্ত হন বলে জানানো হয়|

কিন্তু অদৃশ্য ক্ষমতার বলে পরবর্তীতে তা বাতিল করে এনামকে দেওয়া হয়| প্রকৃতপক্ষে এই ইজারা নেওয়ার মুলে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা রমজান আলী| রমজান আলীর সাথে চেয়ারম্যান মামুন পারভেজের রয়েছে সুসম্পর্ক| আওয়ামী লীগ নেতা রমজান আলীর উপর ˆবষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র জনতার উপর হামলার দােেয় গোয়াইনঘাট থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে| তাই কৌশলে রমজান ও চেয়ারম্যান মামুন পারভেজ গত ১৪/০৫/২৬ ইং ০২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ডাকঘর: মাতুরতল বাজার-৩১৫০, উপজেলা: গোয়াইনঘাট, জেলা: সিলেটের ¯^ারক নং-: প: জাফ, ইউ. পি/২০২৬-৪৯ তারিখ: ১৪/০৫/২০২৬ মুলে একটি দরখাস্ত কাউকে না জানিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রমজানের পছন্দের মানুষ এনাম কে ইজারা প্রদান করেন| এসময় শাহরিয়ার তামিম উজ্জ্বল ইজারা না দিয়ে রমজানের ঘনিষ্ঠ সহচর তার অনুপস্থিতিতে ইজারা মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী এনাম উদ্দিন, পিতার নাম: আছদ্দর আলী, গ্রাম: তারুখাল, ডাক: মাতুরতল বাজার-৩১৫০, উপজেলা: গোয়াইনঘাট জেলা: সিলেটকে ইজারা প্রদান করা হয়| এতে ০২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের লাখ লাখ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়|

ইজারাদার এনাম কে ইজারা দেওয়ার পেছনে রমজানের সম্পৃক্ততা রয়েছে| এনামের নামও প্রতিষ্টানের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ নেতা রমজান ইজারা নেয়| কারন রমজান বিগত ফ্যাসিস্ট ˆ¯^রাচার আওয়ামী লীগ সরকারের উপজেলার প্রভাবশালী নেতা ছিল| তার বিরুদ্ধে তখন কথা বলার সাহস কেউ পেত না| জুলাই আগষ্টের আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রমজান খোলস পাল্টিয়ে বিভিন্ন মানুষের নামে ও প্রতিষ্টানের নাম ব্যবহার করে আজ পর্যন্ত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে| একাধিক সুত্রে রমজান সীমান্তে ওপার থেকে ভারতীয় পন্য, বিদেশি মদ, চিনি, কসমেটিক সহ নানান জিনিস সরকারের রাজ¯^ ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে| চোরাচালানের জগতে রমজানের প্রভাব ও আধিপত্য এখনো বহাল আছে বলে জানিয়েছেন উপজেলাবাসী|

বর্তমানে ইজারাদার মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজ কতৃক মালামাল বহনকারী নৌকা ও ট্রাক গুলোতে যে পরিবহন কর রশিদ দিচ্ছেন তাতে রয়েছে পরিবহন শ্রমিক ও চালকদের নানান প্রশ্ন| চালকরা জানান, কর রশিদের মধ্যে রয়েছে ইজারাদার প্রতিষ্টানের নাম, ইউনিয়ন পরিষদের স্মারক| নেই কোন শীল মোহর, নেই কোন যোগাযোগ না¤^ার| ইজারাকৃত জায়গা থেকে মালমাল নেওয়ার সময় যদি কোন জায়গায় জবাবদিহিতা বা আইনগত কোন ঝামেলার সৃষ্টি হলে এই পরিবহন কর রশিদ কতটুকু যৌক্তিক বা আইনসিদ্ধ হবে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না|



গোয়াইনঘাটে নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বাধা দেওয়ায় দাদি খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বাধা দেওয়ায় দাদি খুন

সিলেটের গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ১৪ বছর বয়সী নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার সময় বাঁধা দেওয়ায় দাদিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মা-মেয়েসহ আরও ২জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

জানা যায়, রাতে ঘরের একটি কক্ষে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল কিশোরী নাতনি (১৪)। আর্ত চিৎকারে দাদি গিয়ে দেখেন একদল লোক কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তা ঠেকাতে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দাদি এলাকাবাসীকে ডাকেন। ‍এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে মারা যান কিশোরীর দাদি।

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত দাদি হচ্ছেন দিলারা বেগম (৫৪)। তিনি মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত নাতনি (১৪) ও তার মা আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করেছে বলে দাবি করলেও শনিবার বিকেল (৫টা) পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরী চিৎকার করতে থাকলে তাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখাতে গিয়ে হাতে জখম করা হয়। চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়ান। দুর্বৃত্তরা তার বুকের ডান পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাৎক্ষণিক এ দৃশ্য দেখে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের এক আত্মীয় জানান, গভীর রাতে এমন দুর্বত্তপনায় পুরো এলাকাবাসী হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা হচ্ছিল। আহত কিশোরী তার চোখের সামনে দাদির হত্যাকাণ্ড দেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।  কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা সাজনা বেগম এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। মা-মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে তার দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে আসেন। তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশী আলকাছ মিয়া জানান, একটি টিনের ঘরে দিলারা বেগম তার প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনি, এক প্রতিবন্ধী নাতি এবং ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের দুই ছেলে কয়েক মাস আগে ঋণ করে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কান্নাকাটির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দিলারা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। অন্য আরেকটি স্থানে জখমি অবস্থায় পড়ে ছিলেন ওই কিশোরী ও তার মা।

আহত সাজনা বেগম জানান, রাতের বেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দরজা খোলা দেখতে পান। বজ্রপাতের আলোয় দেখতে পান, এক ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চড়াও হয়েছে। বাধা দিলে ওই ব্যক্তি মেয়ের মুখ চেপে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির সময় তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং  মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

কিশোরীকে তুলে নেওয়া বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢোকে কিশোরীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে এ ঘটতে পারে। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুুলিশ কিশোরীর দাদি দিলারার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘নিহতের এক সন্তান প্রবাসী। তার সঙ্গে টাকার বিরোধ নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে এ টুকু জানা গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।’


পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ
বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬

বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী আব্দুল ওয়াদুদ ইমন (৩৮) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গুলডোবা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার সুরমা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। তার অভিযোগ, বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত কনস্টেবল নাজমুল হোসেন তার স্ত্রী পিয়ারা আক্তার খুশীকে (৩৯) প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছেন। খুশী সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি মেগারগাঁও গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক খুশীর সঙ্গে ইমনের বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকে তারা একসঙ্গে সংসার করে আসছিলেন। ব্যবসার কাজে ইমন প্রায়ই বাইরে অবস্থান করতেন। এই সুযোগে কনস্টেবল নাজমুল হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইমনের দাবি, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি তার নজরে এলেও সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে খুশী তার সঙ্গে বিরূপ আচরণ শুরু করেন এবং তালাকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, কনস্টেবল নাজমুলের পরামর্শে খুশী তার স্বামীর মালিকানাধীন ৩টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি স্টিলের নৌকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন সম্পদ হাতিয়ে নেন। এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কনস্টেবল নাজমুল খুশীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক ও বিচার-পঞ্চায়েতের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। এ অবস্থায় বিশ্বনাথ থানা ও সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে কনস্টেবল নাজমুল তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে আব্দুল ওয়াদুদ ইমন বলেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার স্ত্রী ও আমার কষ্টার্জিত সম্পদ ফিরিয়ে পেতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কনস্টেবল নাজমুল হোসেন বলেন, “ইমনের স্ত্রী কোথায় আছেন তা আমি জানি না। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।” এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।