শেয়ার বাজার

থানার ‘বিশ্বস্ত সোর্স’ পরিচয়ে সাদ্দামের ত্রাস, এসএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

থানার ‘বিশ্বস্ত সোর্স’ পরিচয়ে সাদ্দামের ত্রাস, এসএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেট নগরীর টিলাগড় ও শাহপরান (রহ.) থানা এলাকায় নিজেকে “শাহপরান থানার বিশ্বস্ত লোক” পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, ভূমি দখলের চেষ্টা এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে রাশেদ আহমদ ওরফে সাদ্দামের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন শামসুদ্দীন নামের এক ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, শামসুদ্দীনের নামে রেকর্ডভুক্ত ও নামজারিকৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও আদালতের রায়, সরকারি কাগজপত্র এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতের সিদ্ধান্ত শামসুদ্দীনের পক্ষেই রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।ভুক্তভোগীর দাবি, সম্প্রতি সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে সীমানা পিলার অপসারণের চেষ্টা চালানো হয় এবং জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করা হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদ্দাম প্রায়ই নিজেকে শাহপরান থানা পুলিশের ঘনিষ্ঠ ও “বিশ্বস্ত সোর্স” হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। বিশেষ করে টিলাগড় এলাকায় তার একটি বলয় তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, শাহপরান থানা এলাকার কিছু পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ওঠাবসাকে পুঁজি করে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করছেন।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, টিলাগড় এলাকার বিভিন্ন স্পটে প্রায়ই পুলিশ সদস্যদের আড্ডা ও আনাগোনা দেখা যায়। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাদ্দাম নিজের প্রভাব ও ক্ষমতার প্রচার করে থাকেন। ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।লিখিত আবেদনে শামসুদ্দীন উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকি, দখলচেষ্টা ও প্রভাব বিস্তারের কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে আশঙ্কা করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগটি দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

হবিগঞ্জে একদিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

হবিগঞ্জে একদিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জে একদিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহগুলো ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। জানা যায়- সকালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুরাবই গ্রামের ইকবাল মিয়ার পুত্র মুরাদ মিয়া (৪০) বুধবার রাত ১০টা থেকে নিখোঁজ ছিল। সকালে গ্রামের একটি বাশ ঝাড়ের নিচে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার করে।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন- ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ যানা যাবে। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।  এদিকে, মাধবপুর উপজেলার নেয়াপাড়ায় সায়হাম কোম্পানির নিকটস্থ একটি কবর স্থানের পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি পুরুষ (৫২) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। 
 বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবপুর থানার ওসি মাহবুব মোর্শেদ খান জানান- মরদেহের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ, মৃতুর কারণ নিয়ে চলছে তদন্ত। 


র‌্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটে ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটে ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক ১

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেটে র‌্যাব-৯ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানি পণ্যসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে| জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব| রোববার (১৭ মে) র‌্যাব-৯, সিপিসি-২ সিলেটের গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়| র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৬ মে রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানাধীন শাহপরান সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন বাইপাস এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়| এসময় একটি নীল রঙের পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করা হয়| অভিযানকালে পিকআপ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ৩ জনের মধ্যে একজনকে আটক করা সম্ভব হয়|

আটক ব্যক্তি হলেন সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার গোরাকপুর গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২৫)| অপর দুইজন কৌশলে পালিয়ে যায়| র‌্যাব আরও জানায়, আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিকআপ থেকে ভারতীয় ১ হাজার ২০৫ পিস শাড়ি, ৪ লাখ পিস ঈুঢ়ৎড়যবঢ়ঃধফরহব ঞধনষবঃং ৪সম, ২ হাজার ৩৮ পিস ঔটঝঞ উ৩ উৎড়ঢ়ং ৩০সষ এবং ৩ হাজার ৬০০ পিস ইধপরষষঁং ঈষধঁংরর ঝঢ়ড়ৎবং ঝঁংঢ়বহংরড়হ ৫সষ উদ্ধার করা হয়| প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি ¯^ীকার করেছেন, তারা ভারত থেকে অবৈধভাবে এসব পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন| এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে| আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত আলামত থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব| র‌্যাব-৯ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ¯^াভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে|



রামিসার মতো ফাহিমার বিচারেও এই ধরনের ঘোষণা চাই:শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

রামিসার মতো ফাহিমার বিচারেও এই ধরনের ঘোষণা চাই:শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ‘সিলেটের ছোট্ট শিশু ফাহিমার প্রতি নৃশংস হত্যাকান্ডের ২৮দিনেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি, চার্জশীট দাখিল হয়নি। দেশব্যাপী আলোচিত এই ঘটনার বিচার দীর্ঘসুত্রিতার দিকে গেলে আমরা ধরে নেবো বিচার হবেনা। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রামিসার কথা বলেছেন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিচার হবে, আমরা ফাহিমার বিচারেও এইধরনের ঘোষণা চাই। এর বাস্তবায়ন চাই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাহিমা হত্যা মামলার চার্জশীট প্রদানের জন্য পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এইধরনের ঘটনার বিচার নিশ্চিতে আমরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে তাদের পাশে থাকবো।’

 তিনি মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১ টায় সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলায় পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার চার বছরের শিশু ফাহিমার বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের পাশে সাক্ষাত শেষে উপস্থিত সাংবাদিক ও জনগণের উদ্দেশ্যে উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি তাদেরকে সহমর্মিতা জানানোর পাশাপাশি পরিবারের সার্বিক বিষয়ের খোঁজখবর নেন এবং সবসময় তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এসময় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি গ্রামবাসীদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা ফাহিমার বিপন্ন পরিবারটি পাশে থাকবেন। আমি কথা দিচ্ছি- আমার এবং আমাদের সংগঠন নিজের জায়গা থেকে সবসময় পরিবারের পাশে থাকবে। তাদের কপাল বদলানোর দায়িত্ব আল্লাহর। আমরা বিপদে পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব পালন করতে পারি। আমরা লোক দেখানো কোন কিছু করতে চাইনা। বাংলাদেশের যেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে আমরা সীমিত সামর্থের ভেতরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বলছি- আমি আপনার বিপদ দুর করতে পারবোনা, কিন্তু কষ্টের ভাগ নিতে এসেছি।

তিনি বলেন, যেখানেই মানুষ মজলুম হবে সেখানেই আমরা হাজির হবো। মজলুম কোন দল, মত ও ধর্মের সেটা বিবেচ্য নয়, আমরা তাকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেই পাশে দাঁড়াবো। সিলেটের দুজন মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারাও দায়িত্ব পালন করবেন। এই আসনের মন্ত্রীকে কথা দিয়েছি ফাহিমার বিচারে আমি পাশে থাকবো। আমরা দেখতে চাই এই জনপদের জন্য আপনী ভুমিকা পালন করেন।
 
বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, সমাজের লম্পটদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তাদের দৌরাত্ম বেড়ে যাবে। ফাহিমা ও রামিসাদের আর্তচিৎকার, জীবন আলো নিভে যাওয়া ও তাদের আপনজনের চোখের পানিতে নদী তৈরী হয়ে যাওয়া বর্তমানে এটি হচ্ছে বাংলাদেশের চিত্র। জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত, নিজেকে ধিক্কার জানাই। আমরা মাসুম বাচ্চাদেরও ইজ্জত আমরা রক্ষা করতে পারছিনা। আমরা আবার বড় বড় কথা বলি, ধমকের সুরে কথা বলি। আমাদের কারও কারও আচরণে মনে হয়- আমরা শুধু দুনিয়া না, আসমানকেও শাসন করতে পারি-নাউযুবিল্লাহ। দুনিয়া ও আসমানের শাসন করার এখতিয়ার একমাত্র সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আল-আমীনের। ক্ষমতায় কেউ গেলে তাকে বিনয়ী হওয়া উচিত। কারণ সরকার হচ্ছে জনগণের পাহারাদার। অথচ তারা দেশবাসীকে তাদের ভাড়াটিয়া মনে করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব কালপ্রিটদের খুজে বের করা ও আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব বিচার নিশ্চিত করা। ফাহিমার সাথে অপকর্ম জাকির একা করে নাই। এর সাথে তার পরিবারের লোকজনও জড়িত বলে সবাই বলেছে। তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

 এসময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, সদর উপজেলা আমীর নাজির উদ্দিন, নায়েবে আমীর আব্দুল লতিফ লালা ও সেক্রেটারী আল ইমরান প্রমূখ।