শেয়ার বাজার

বাংলাদেশে ভয়ংকর সীসা দূষণ, হৃদরোগে মারা যাচ্ছে লাখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বাংলাদেশে ভয়ংকর সীসা দূষণ, হৃদরোগে মারা যাচ্ছে লাখো মানুষ

সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে আক্রান্ত ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। একই কারণে দেশটির শিশুদের আইকিউ কমে যাচ্ছে, যার ফলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হবার ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ জার্নালে’ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল হেলথ বার্ডেন অ্যান্ড কস্ট অব লেড এক্সপোজার ইন চিলড্রেন অ্যান্ড অ্যাডাল্টস: অ্যা হেলথ ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড ইকোনমিক মডেলিং অ্যানালাইসিস’ নামের এই গবেষণাটি করেছেন বিশ্বব্যাংকের একদল গবেষক।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, সীসা দূষণের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ। এর ফলে একদিকে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তেমনি শিশুদেরও আইকিউ কমে যাচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৬৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির ২০১৯ সালের মোটি জিডিপি’র প্রায় ৬ থেকে ৯ শতাংশের সমান। সীসা সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে শিশুদের। মাত্রার চেয়ে বেশি সীসা শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।

বাংলাদেশের ২০১৯ সালের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন যে, সীসা দূষণের ফলে দেশটিতে শূন্য থেকে চার বছর বয়সী বাচ্চারা প্রায় দুই কোটি আইকিউ পয়েন্টস হারাচ্ছে। এতে শিশুদের বুদ্ধির যথাযথ বিকাশ হচ্ছেনা। ফলে নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে তাদের যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি আচার-ব্যবহারেও নানা অসংগতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, খাবারে অরুচি, ওজন কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ - এরকম নানা সমস্যাও তৈরি করছে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. প্রিসিলা ওবিল এ প্রসঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশে শিশুদের রক্তে উচ্চমাত্রায় সীসার উপস্থিতি তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।এছাড়া সীসা দূষণের ফলে তাদের আইকিউ কমে যাচ্ছে, যা দেশটির সার্বিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই সীসা দূষণ বন্ধে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী।” ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজে’র তথ্যে দেখা গিয়েছিলো যে, সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। কিন্তু নতুন এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। এখানে দেখা যাচ্ছে যে, সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর ২৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “সীসা দূষণ রোধে এখনই উপযুক্ত সময়। এই সমস্যাকে সমূলে উৎপাটনের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।”

সীসা দূষণের উৎস

ব্যাটারি ভাঙ্গা শিল্প, সীসাযুক্ত পেইন্ট, অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিল, খাবার রাখার জন্য ব্যবহৃত সিরামিকের পাত্র, ই-বর্জ্য, খেলানা, সার, রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন মশলা, প্রসাধনী, খাবার-দাবার এবং চাষ করা মাছের জন্য তৈরি খাবার থেকেই মূলত: বাংলাদেশে সীসার দূষণ ঘটে।

প্রকাশিত গবেষণাটির অংশ হিসেবে খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০০টি নমুনা সংগ্রহ করে সীসার উপস্থিতি পরিমাপ করে দেখেছে নিউ-ইয়র্ক ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘পিওর আর্থ’। এসব নমুনার মধ্যে খাবার রাখার জন্য ব্যবহৃত ধাতব ও প্লাস্টিকের পাত্র, সিরামিক পাত্র, রঙ, শুকনা খাবার, খেলনা, রান্নায় ব্যবহৃত মশলা এবং প্রসাধনী পণ্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২৪% নমুনাতেই মাত্রাতিরিক্ত সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

খাবার রাখার জন্য ব্যবহৃত ৫৯% ধাতব পাত্রে, ৪৪% সিরামিক পাত্রে, ৯% প্লাস্টিকের পাত্রে, ৫৪% পেইন্টে, ১৭% চাল/স্টার্চে, ১৩% খেলনায়, ৭% মশলায় এবং ৬% প্রসাধনীতে অতিমাত্রায় ক্ষতিকর সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে প্রতি ডেসিলিটার রক্তে গড়ে প্রায় ৬.৮ মাইক্রোগ্রাম সীসা পাওয়া গেছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে। তবে একজন মানুষের শরীরে কতটুকু সীসা থাকা নিরাপদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার সঠিক কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি।

মেয়াদ শেষ, চুক্তি ছাড়াই চলছে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬

মেয়াদ শেষ, চুক্তি ছাড়াই চলছে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন

সিসিকের মৌখিক অনুমতিতে ৫ মাস ধরে ‘অবৈধ’ কার্যক্রম, প্রশ্নে জননিরাপত্তা
হাসান জুলহাস :: সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র ধোপাদিঘীর পাড়ে অবস্থিত বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্রকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অবৈধ পরিচালনার অভিযোগ| সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন আরবান হেলথ সার্ভিস প্রকল্পের এই প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো বৈধ লিখিত চুক্তি ছাড়াই গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এনজিও ‘সীমান্তিক’| এতে জননিরাপত্তা, সেবার ˆবধতা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন| সুত্রে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আরবান হেলথ সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ মাতৃসদন কেন্দ্র বাস্তবায়ন করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)|

২০২০ সালের ১ জুলাই টেন্ডারের মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব পায় এনজিও সীমান্তিক। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুন।
পরবর্তীতে সীমান্তিকের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে সিসিক সাময়িকভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো চুক্তি বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এখনও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে সিসিক নগর ভবনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন,“এখানে মিথ্যা বলার কিছু নেই। সীমান্তিকের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ জুন। পরে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কোনো লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়া মৌখিকভাবে চলছে।”
তিনি আরও জানান, আগে মাতৃসদনের তিন দিনের প্যাকেজ ছিল ১২ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ডের বেড ভাড়া দৈনিক ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের ব্যয়ও রোগীকেই বহন করতে হচ্ছে।

খরচ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগে সিটি কর্পোরেশন থেকে মাসিক কিছু খরচ দেওয়া হতো। এখন তা দেওয়া হয় না। তাই ডাক্তার-কর্মচারীদের বেতন দিতে খরচ বাড়ানো হয়েছে।” সিসিক থেকে বর্তমানে কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “না, সিসিক থেকে এখন কোনো খরচ দেওয়া হয় না।”

এদিকে সীমান্তিকের পরিচালক পারভেজ আলম মুঠোফোনে জানান, “সিসিকের সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা চালাচ্ছি। খরচের অর্ধেক সিসিক দেওয়ার কথা।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে সিসিকের সঙ্গে সীমান্তিকের কোনো বৈধ লিখিত চুক্তিই নেই, সেখানে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, চিকিৎসা জটিলতা কিংবা রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে? সীমান্তিক, নাকি সিসিক?

এদিকে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা আরবান হেলথ প্রকল্প স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী  সিসিক প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্র সিলেটের সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু হস্তান্তরের পরও রবিবার (১৭ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তিক এনজিও আগের মতোই কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: নাছির উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি  বলেন আমরা শুধু ভবন বুঝে পেয়েছি ভবনের লজিস্টিক বুঝে পাইনি, এক সপ্তাহের মধ্যেই আশা করি বুঝে পাবো। অবৈধভাবে ৫ মাস যাবৎ চলছে, এবিষয়ে তিনি বলেন কাগজপত্র দেখে অবৈধ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবৈধভাবে ৫ মাস যাবৎ চলছে, এবিষয়ে তিনি বলেন কাগজপত্র দেখে অবৈধ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে| এ ঘটনায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক হস্তান্তরের পরও কীভাবে একটি এনজিও লিখিত অনুমোদন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে? আর এই ‘মৌখিক অনুমতি’র আড়ালে চলছে না তো নতুন কোনো অনিয়মের খেল?



৯ কেন্দ্রে করোনার টিকা কার্যক্রম
ফের শুরু হয়েছে ঢাকার ৯ কেন্দ্রে করোনার টিকা কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

ফের শুরু হয়েছে ঢাকার ৯ কেন্দ্রে করোনার টিকা কার্যক্রম

335.684x188.809 (Original: 1280x720)


335.684x188.809 (Original: 1280x720)

বার্তাবেলা ডেস্ক: দেশে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। তাই দ্রুত টিকা দিতে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় গত ২১ জানুয়ারি থেকে ঢাকার ৯টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে টিকা কার্যক্রম। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেয় অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স বিভাগের সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, আমরা প্রয়োজনীয় টিকা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি। টিকা কার্যক্রম চলছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী, ৬০ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব) জনগোষ্ঠী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রাধান্য দিয়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবাইকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কেন্দ্রগুলো হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিডফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট সহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার কিছু জায়গায় টিকা দেওয়া হচ্ছে।


তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা শহরের ৯টি কেন্দ্রে বুস্টার ডোজ অর্থাৎ ৩য় এবং চতুর্থ ডোজ ফাইজার ভিসিভি ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ফাইজার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের ১ম, ২য় এবং বুস্টার ডোজ (৩য়, ৪র্থ ডোজ) বিতরণ এবং প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগির কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে হবে।


আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ভয়ংকর সীসা দূষণ, হৃদরোগে মারা যাচ্ছে লাখো মানুষ


পরে ধাপে ধাপে ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত ইন্সটিটিউট ও সরকারি হাসপাতাল, ঢাকার বাইরের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালসমূহে ভ্যাকসিন বিতরণের মাধ্যমে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ১ম এবং ২য় ডোজের ক্ষেত্রে ফাইজার আরটিইউ ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল, মহাখালী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নয়াবাজার ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে এই টিকা প্রদান করা হবে।






নির্দেশনায় বলা হয়, ১ম এবং ২য় ডোজ টিকা প্রাপ্তির প্রমাণস্বরূপ ভ্যাকসিনের নাম এবং তারিখ উল্লেখপূর্বক কোভিড-১৯ টিকাদান কার্ড সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে প্রদান করা হবে। ৩য় এবং ৪র্থ ডোজ টিকার ক্ষেত্রে সুরক্ষা ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপ থেকে টিকাকার্ড ডাউনলোড করে সঙ্গে আনতে হবে; এমআইএস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পূর্ব নির্ধারিত উপায়ে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশনের রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।


নার্সিং সেবার মান আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে সংসদে কথা বলবো : এমপি এমরান চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

নার্সিং সেবার মান আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে সংসদে কথা বলবো : এমপি এমরান চৌধুরী

সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট রেড ক্রিসেন্ট মাতৃমঙ্গল হাসপাতাল ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন- সেবা ও মানবতার মহান ব্রত নিয়ে নার্সরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ান তা অতুলনীয়। একটি সুস্থ জাতি গঠনে দক্ষ ও ক্ষমতায়িত নার্সের বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আমাদের নার্সিং পেশাকে আরও সম্মান ও গুরুত্ব দিতে হবে।

সিলেট রেড ক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজের উদ্যোগে ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতায়িত নার্সরাই জীবন বাঁচায়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার (১২ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরের চৌহাট্টাস্থ কলেজ নার্সিং কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি আরও বলেন- বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নার্সরাই ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের নার্সিং সেবার মান আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে কথা বলবো ইনশা আল্লাহ। 

সিলেট রেড ক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ রেনোয়ারা আক্তারের সভাপতিত্বে ও সৌরভ বিশ্বাস এবং অনামিকা চন্দ-এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি ও নার্সিং কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুলাহ মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাইদ মো. ইব্রাহিম, সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জীবন, মুজিব জাহান রেড ক্রিসেন্ট ব্ল্যাড ব্যাংকের পরিচালক ডা. তৌহিদ চৌধুরী এবং রেড ক্রিসেন্টের যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।
আরও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট রেড ক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজের অধ্যাপক মাকসুদা খাতুন, সহকারী অধ্যাপক আসমা বেগম, পূজা আচার্য সহ কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং নার্সিং শিক্ষার্থী।
আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয় এবং কেক কাটা হয়।