শেয়ার বাজার

মেয়াদ শেষ, চুক্তি ছাড়াই চলছে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

মেয়াদ শেষ, চুক্তি ছাড়াই চলছে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন

সিসিকের মৌখিক অনুমতিতে ৫ মাস ধরে ‘অবৈধ’ কার্যক্রম, প্রশ্নে জননিরাপত্তা
হাসান জুলহাস :: সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র ধোপাদিঘীর পাড়ে অবস্থিত বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্রকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অবৈধ পরিচালনার অভিযোগ| সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন আরবান হেলথ সার্ভিস প্রকল্পের এই প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো বৈধ লিখিত চুক্তি ছাড়াই গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এনজিও ‘সীমান্তিক’| এতে জননিরাপত্তা, সেবার ˆবধতা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন| সুত্রে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আরবান হেলথ সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ মাতৃসদন কেন্দ্র বাস্তবায়ন করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)|

২০২০ সালের ১ জুলাই টেন্ডারের মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব পায় এনজিও সীমান্তিক। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুন।
পরবর্তীতে সীমান্তিকের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে সিসিক সাময়িকভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো চুক্তি বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এখনও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে সিসিক নগর ভবনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন,“এখানে মিথ্যা বলার কিছু নেই। সীমান্তিকের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ জুন। পরে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কোনো লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়া মৌখিকভাবে চলছে।”
তিনি আরও জানান, আগে মাতৃসদনের তিন দিনের প্যাকেজ ছিল ১২ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ডের বেড ভাড়া দৈনিক ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের ব্যয়ও রোগীকেই বহন করতে হচ্ছে।

খরচ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগে সিটি কর্পোরেশন থেকে মাসিক কিছু খরচ দেওয়া হতো। এখন তা দেওয়া হয় না। তাই ডাক্তার-কর্মচারীদের বেতন দিতে খরচ বাড়ানো হয়েছে।” সিসিক থেকে বর্তমানে কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “না, সিসিক থেকে এখন কোনো খরচ দেওয়া হয় না।”

এদিকে সীমান্তিকের পরিচালক পারভেজ আলম মুঠোফোনে জানান, “সিসিকের সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা চালাচ্ছি। খরচের অর্ধেক সিসিক দেওয়ার কথা।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে সিসিকের সঙ্গে সীমান্তিকের কোনো বৈধ লিখিত চুক্তিই নেই, সেখানে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, চিকিৎসা জটিলতা কিংবা রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে? সীমান্তিক, নাকি সিসিক?

এদিকে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা আরবান হেলথ প্রকল্প স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী  সিসিক প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্র সিলেটের সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু হস্তান্তরের পরও রবিবার (১৭ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তিক এনজিও আগের মতোই কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: নাছির উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি  বলেন আমরা শুধু ভবন বুঝে পেয়েছি ভবনের লজিস্টিক বুঝে পাইনি, এক সপ্তাহের মধ্যেই আশা করি বুঝে পাবো। অবৈধভাবে ৫ মাস যাবৎ চলছে, এবিষয়ে তিনি বলেন কাগজপত্র দেখে অবৈধ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবৈধভাবে ৫ মাস যাবৎ চলছে, এবিষয়ে তিনি বলেন কাগজপত্র দেখে অবৈধ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে| এ ঘটনায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক হস্তান্তরের পরও কীভাবে একটি এনজিও লিখিত অনুমোদন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে? আর এই ‘মৌখিক অনুমতি’র আড়ালে চলছে না তো নতুন কোনো অনিয়মের খেল?


মশা: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ যে ৫ টি মশাবাহিত রোগ বাংলাদেশে ছড়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মশা: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ যে ৫ টি মশাবাহিত রোগ বাংলাদেশে ছড়ায়

পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির মশা রয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ১০০ টির মত প্রজাতি রোগ ছড়ায়। এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে মশা থেকে ২০টির মত রোগ ছড়ায়। পুরো পৃথিবীতে কীটপতঙ্গের আক্রমণে প্রতিবছর যত মানুষ মারা যান, তাদের মধ্যে মশাবাহিত রোগে মারা যান সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ। মশাবাহিত রোগ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ২০শে অগাস্ট পালিত হয় বিশ্ব মশা দিবস।

বাংলাদেশের মশা

কীটতত্ত্ববিদ এবং গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৩ প্রজাতির মশার খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই ১৪টি প্রজাতির মশা পাওয়া যায়।কীটতত্ত্ববিদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মশাবাহিত পাঁচটি রোগের কথা জানা যায়।

এর মধ্যে রয়েছে ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং জাপানিজ এনসেফালাইটিস।

ম্যালেরিয়া

স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু ছড়ায়। বাংলাদেশে মোট ৩৬ প্রজাতির অ্যানোফিলিস মশা দেখা যায়, এদের মধ্যে সাতটি প্রজাতি বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়।

অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেছেন, এই সাত প্রজাতির মধ্যে চারটি প্রজাতি ম্যালেরিয়ার প্রধান বাহক বাংলাদেশে।

এই মূহুর্তে বাংলাদেশের ১৩টি জেলার ৭২টি থানায় ম্যালেরিয়া রোগের উপস্থিতি রয়েছে। মূলত পার্বত্য ও সীমান্ত এলাকাতেই ম্যালেরিয়া বেশি দেখা যায়। এটি গ্রীষ্মকালে হয়।

২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, মারা যান ১৫৪ জন। পরে এ সংখ্যা কমে আসে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আফসানা আলমগীর খান‌ বিবিসিকে বলেছেন, এখন ম্যালেরিয়া প্রকোপের ৯০ শতাংশের বেশি হয় দেশে তিন পার্বত্য জেলায়। তিনি জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলের পরিকল্পনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করছে।

ফাইলেরিয়া

কিউলেক্স মশার দুটি প্রজাতি এবং ম্যানসোনিয়া মশার একটি প্রজাতির মাধ্যমে বাংলাদেশে ফাইলেরিয়া রোগ ছডায়।

ফাইলেরিয়া রোগে মানুষের হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। একে স্থানীয়ভাবে গোদ রোগও বলা হয়।

বাংলাদেশের ৩৪টি জেলায় ফাইলেরিয়া আক্রান্ত রোগী দেখা যায়।

ডেঙ্গু

এডিস মশার দুইটি প্রজাতি- এডিস ইজিপ্টি এবং অ্যালবোপিকটাস, মূলত ডেঙ্গু ভাইরাসের জীবাণু ছড়ায়।

এডিস মশা পাত্রে জমা পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। সাধারণত বর্ষাকালে এর ঘনত্ব বেশি হয়, ফলে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাবও এ সময়ে বেড়ে যায়।

কিন্তু বাংলাদেশে চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারির পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ অনেকগুন বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জানুয়ারি থেকে ১৭ই অগাস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬,৬৫০ জন মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে থাকে।

তীব্র পেটে ব্যথাও হতে পারে। শরীরে বিশেষ করে মাংসপেশীতে তীব্র ব্যথা হয়। জ্বরের ৪/৫ দিন পার হলে শরীরজুড়ে র‌্যাশ বা ঘামাচির মত লালচে দানা দেখা দেয়।

সাথে বমি ভাব, এমনকি বমিও হতে পারে।

ডেঙ্গু গুরুতর হলে রক্তে প্লাটিলেট কমে যায়, চোখের কোনা, দাঁতের মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

ডা. আফসানা আলমগীর খান‌ বলেছেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রধাণ কারণ হচ্ছে আক্রান্ত হবার পর পরিস্থিতি খারাপ না হওয়া পর্যন্ত লোকে ডাক্তারের কাছে যায় না।

তিনি বলেন, লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা মাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সথে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ খেয়াল রাখতে হবে।

চিকুনগুনিয়া

চিকুনগুনিয়া রোগও এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম চিকুনগুনিয়া ধরা পড়ে।

চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণ সাধারণ ভাইরাল ফিভারের মত।

তবে মাথাব্যথা, বমি ভাব, দুর্বলতা, সর্দি-কাশি, এবং র‌্যাশের সঙ্গে শরীরে হাড়ের জয়েন্ট বা সংযোগস্থলে তীব্র ব্যথা হয়।

চিকুনগুনিয়া হলে অধিকাংশ সময় তিন থেকে চার দিনের মধ্যে জ্বর সেরে যায়। কিন্তু হাড়ের সংযোগস্থলগুলোতে হওয়া ব্যথা কারো কারো ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ভোগায়।

জাপানিজ এনসেফালাইটিস

অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, জাপানিজ এনসেফালাইটিস রোগটি কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায়।

১৯৭৭ সালে মধুপুর বন এলাকায় প্রথম জাপানিজ এনসেফালাইটিস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন।

এরপর বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম এবং খুলনা অঞ্চলে এই রোগটি পাওয়া যায়।

অধ্যাপক বাশার বলছেন, বাংলাদেশে মশাবাহিত এই পাঁচ ধরণের রোগই মূলত দেখা যায়।

তবে কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস আক্রান্ত দুইজন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন।

এরপর গত কয়েক বছরে আর জিকা ভাইরাস আক্রান্ত কাউকে শনাক্তের কথা শোনা যায়নি।

ফলে বাংলাদেশে এর অস্তিত্ব আছে বলে তিনি মনে করেন না।

কীভাবে মশাবাহিত রোগ থেকে সুস্থ থাকবেন

মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সতর্ক হবার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ আক্রান্ত হবার পর সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হলে মৃত্যুসহ নানা ধরণের জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডা. আফসানা আলমগীর খান এবং অধ্যাপক কবিরুল বাশারের পরামর্শ অনুযায়ী মশাবাহিত রোগ থেকে সুস্থ থাকার কয়েকটি উপায় বলছেন, যা এরকম

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার এই দুইটি রোগের জন্যই দায়ী এডিস মশা সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার আগে এডিস কামড়ায়। ফলে এই দুই সময়ে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ রাখতে হবে

ঘুমানোর সময় মশারি খাটিয়ে ঘুমাতে হবে

বাড়ির ছাদে বা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনে, বাতিল টায়ার কিংবা প্লাস্টিক কন্টেইনার- কোথাও যাতে তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি পানি জমা না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে

মশার কামড় থেকে বাঁচতে নানা ধরণের রিপেলেন্ট অর্থাৎ মশা তাড়ানোর পণ্য যেমন বিভিন্ন ধরণের কয়েল, স্প্রে, ক্রিম জাতীয় পণ্য ব্যবহার করা, তবে এর মাত্রা ও প্রয়োগ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

এগুলো সবই মশাবাহিত কোন রোগে আক্রান্ত হবার আগের সতর্কতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক পদ্ধতি

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন মশা তাড়াতে কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায় চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে।

তবে ঢাকায় মশার সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে তাতে এসব কায়দা কতটা খাটবে সে আশংকাও রয়েছে।

অনেক বছর ধরে মশা তাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন কয়েকটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো:

নিমে মশা তাড়ানোর বিশেষ গুণ রয়েছে। প্রাচীনকালে মশা তাড়াতে নিমের তেল ব্যবহার করা হত। ত্বকে নিম তেল লাগিয়ে নিলে মশা ধারে-কাছেও ভিড়বে না বলে প্রচলিত।

বলা হয়ে থাকে মশা কর্পূরের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে কর্পূর দিয়ে রাখলে মশা পালিয়ে যায়।

লেবু আর লবঙ্গ একসঙ্গে রেখে দিলে ঘরে মশা থাকে না বলে প্রচলিত আছে। এগুলো জানালায় রাখলে মশা ঘরে ঢুকতে পারবে না

ব্যবহৃত চা পাতা ফেলে না দিয়ে রোদে শুকিয়ে সেটা জ্বালালে চা পাতার ধোঁয়ায় ঘরের সব মশা-মাছি পালিয়ে যাবে। কিন্তু এতে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হবে না।

মশা নিয়ে কয়েকটি মজার তথ্য

  • একটি মশা সেকেন্ডে প্রায় ৩০০-৬০০ বার ডানা ঝাপটায়, মশা ওড়ার সময় এই ডানা ঝাপটানোর শব্দই শুনি আমরা
  • কেবলমাত্র স্ত্রী মশাই মানুষকে কামড়ায়, পুরুষ মশা নয়।
  • মশা ঘণ্টায় প্রায় দেড় মাইল বেগে উড়তে পারে
  • ডিম ফুটে বের হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মশা মানুষকে কামড়ে রক্ত শুষে নেয়
  • মশা স্তন্যপায়ী প্রাণীকে কামড়ানোর পাশাপাশি পাখি ও সরীসৃপের শরীরেও হুল ফোটায়
  • মশা তার নিজের ওজনের তিনগুণ রক্ত শুষে নিতে পারে

সিলেটে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬

সিলেটে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। একই সাথে হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। হাম ও হামের উপসর্গে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে দুজন সিলেটের, ১জন সুনামগঞ্জের ও ১জন মৌলভীবাজারের রয়েছেন। শনিবার (২৩ মে) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো,  আবিদ (বয়স ১০ মাস) বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে, আরাবি আহমদ (বয়স ১৫ মাস) বাড়ি শাহপরাণ সিলেট, নাফি ইসলাম (৫ মাস), বাড়ি শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার ও নিলয় রায় (৬ মাস) দিরাই সুনামগঞ্জ। এরমধ্যে আবিদ ও আরাবি সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং নাফি ও নিলয় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে।

জানা যায়,  শনিবার (২৩ মে) সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা ৫১। এর মধ্যে সরাসরি হাম রোগে মারা গেছেন ৪ জন ও বাকিরা উপসর্গে। ২৪ ঘন্টায় সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ জন। এদের নিয়ে বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯৫ জন রোগী ভর্তি আছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে কারো হাম রোগ শনাক্ত হয়নি। 



গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ২৫১ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ২৫১ জন

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সাতজন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৫০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫১ জন। এ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন দুই হাজার ৩৮৪ ডেঙ্গুরোগী।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৫১ জনের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৬৪ জন। এছাড়া ঢাকার বাইরের ১৮৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় চারজন মারা গেছেন। এসময়ে ঢাকার বাইরে মারা গেছেন তিন ডেঙ্গুরোগী।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট তিন লাখ ১৬ হাজার ৪১১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা এক লাখ ৮ হাজার ৮১৮ জন। ঢাকার বাইরের দুই লাখ সাত হাজার ৫৯৩ জন।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৩১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ১২০ জন এবং ঢাকার বাইরের ৩১১ জন।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন তিন লাখ ১২ হাজার ৩৭৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা এক লাখ ৭ হাজার ২৫০ জন এবং ঢাকার বাইরের দুই লাখ ৫ হাজার ১২৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২০২২ সালে ২৮১ জন, ২০২১ সালে ১০৫ জন, ২০২০ সালে সাতজন ও ২০১৯ সালে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়।