শেয়ার বাজার

বিচ্ছেদের পর আবারও কি নতুন সংসার পাতার ইঙ্গিত সানিয়া মির্জার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বিচ্ছেদের পর আবারও কি নতুন সংসার পাতার ইঙ্গিত সানিয়া মির্জার

সমাজমাধ্যমে সানিয়ার একটি পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। শোয়েবের তৃতীয় বিয়ের খবর জানাজানি হওয়ার পর সানিয়া নিজের এত উচ্ছ্বল ছবি পোস্ট করেননি। জল্পনায় ইন্ধন দিচ্ছে সঙ্গের লেখা।

কেমন আছেন সানিয়া মির্জ়া? শোয়েব মালিকের তৃতীয় বিয়ের পর থেকে এটাই বড় প্রশ্ন ক্রীড়াপ্রেমীদের। ভারত-পাকিস্তান দু’দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদেরই আগ্রহের কেন্দ্রে টেনিস তারকা। এর মধ্যেই সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়কের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ছেলে ইজহানকে নিয়ে ভারতে ফিরে এসেছেন সানিয়া। গত সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ধারাভাষ্যের কাজে। কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন, বাবার নতুন বিয়ের কথা শুনে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ই‌জহান। কিন্তু তিনি কেমন আছেন?

সমাজমাধ্যমে সানিয়ার একটি পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। সিল্কের গোলাপি একটি শার্ট এবং ক্রিম ট্রাউজার্স পরে নিজের একটি সহাস্য ছবি দিয়েছেন সানিয়া। সঙ্গে যা লিখেছেন, তার অর্থ, ‘সব কিছুই সম্ভব’। সানিয়ার হাসিখুশি ছবি দেখে আশ্বস্ত তাঁর অনুরাগীরাও। পাকিস্তানের বহু ভক্ত সানিয়ার প্রশংসা করেছেন।

অনেকের ধারণা, সানিয়াও হয়তো আবার বিয়ে করবেন। নতুন সংসার পাতবেন কারও সঙ্গে। অনেকে তাঁর সাহসী পদক্ষেপকে কুর্নিশ করেছেন। এক জন বলেছেন, ‘‘আপনি ঠিক সেই কাজটাই করছেন, যেটা এক জন অসৎ মানুষের সঙ্গে করা উচিত।’’ আর এক জন আবার বলেছেন, ‘‘ঠিকই বলেছেন। চাইলে সব কিছুই সম্ভব।’’ সানিয়ার হাসিখুশি ছবিতে শুধু ভালবাসার ইমোজি দিয়েও পাশে থেকেছেন অনেকে।



রেলস্টেশনে পাওয়া মেয়েটির নতুন জীবনের শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬

রেলস্টেশনে পাওয়া মেয়েটির নতুন জীবনের শুরু

মাত্র চার বছর বয়স। নিজের নামটুকুও ঠিকমতো বলতে পারত না ছোট্ট মেয়েটি। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে একদিন তাকে অসহায় অবস্থায় পাওয়া যায়। কোথা থেকে এসেছে, কার মেয়ে—কেউ জানত না। হারিয়ে যাওয়া সেই শিশুটির চোখে ছিল ভয়, অনিশ্চয়তা আর অজানা ভবিষ্যতের আতঙ্ক।

সেই ছোট্ট শিশুটির নাম স্বপ্না আক্তার। রেলস্টেশনে পাওয়ার ১৪ বছরের পর বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই আজ হয়ে উঠল তার নতুন জীবনের সূচনার সাক্ষী। বিয়ের পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আবেগ, ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ। কোথাও কোনো ঘাটতি ছিল না। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা—সবকিছুই ছিল একটি স্বাভাবিক পরিবারের মেয়ের বিয়ের মতোই। উপস্থিত অনেকের চোখেই তখন জল। কারণ, পরিবারহীন এক মেয়েকে ঘিরে এত মানুষের ভালোবাসা সত্যিই বিরল দৃশ্য।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রেলস্টেশন থেকে স্বপ্নাকে উদ্ধার করার পর তাকে আশ্রয় দেওয়া হয় সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন। ফলে তাকে আর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেখানেই শুরু হয় তার বেড়ে ওঠা। তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয়। ধীরে ধীরে লেখাপড়া শিখে ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস. এম. মোক্তার হোসেন জানান, “স্বপ্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। কোনো অভিভাবক না থাকায় এবং তার সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। আমরা চেয়েছি, তার ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়।”

পাত্রও সিলেটেরই সন্তান। তিনি ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি কাজ করেন। বিয়ের আয়োজনকে ঘিরে এগিয়ে আসেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর করে রাখা হবে। স্থানীয় এক ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র। পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। এমনকি একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উপহার হিসেবে দেয় ১০০ কাপ দই।

সব মিলিয়ে পুরো আয়োজন ছিল আনন্দমুখর ও হৃদয়স্পর্শী। কেউ বুঝতেই পারেননি, এটি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এক তরুণীর বিয়ে। বরং মনে হচ্ছিল, বহু আদরে বড় হওয়া কোনো মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমার খুবই ভালো লেগেছে। সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ তাকে বিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যতের ভিত্তিও তৈরি করে দিল।”
তিনি নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, ঝুঁকিতে থাকা ও পিতৃহীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, ভরণপোষণ এবং পুনর্বাসন সেবা দিয়ে আসছে। স্বপ্না আক্তারের গল্প সেই মানবিক উদ্যোগেরই এক জীবন্ত উদাহরণ।

   


ইচ্ছে পূরণ না হওয়ায় কোন পথে হাঁটছে মাহিয়া মাহি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ইচ্ছে পূরণ না হওয়ায় কোন পথে হাঁটছে মাহিয়া মাহি

ভেবেছিলেন নেত্রী হবেন, নির্বাচনে জেতার আগেই অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হারতেই বিপাকে পড়ে কোন সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হলেন অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি।

সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দাঁড়ান বাংলাদেশি অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি। নির্দল প্রার্থী হয়ে রাজশাহী-১ আসন থেকে ট্রাক চিহ্নে নির্বাচন লড়েন। কিন্তু নায়িকার নেত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হল না। তবে নির্বাচনী প্রচারে নেমে ভোটারদের কাছে একের পর এক অঙ্গীকার করেছিলেন মাহিয়া মাহি। ভোটে জিতলে আর অভিনয় করবেন না বলেও ঘোষণা করে দেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটে জিততে পারেননি মাহি। ফের অভিনয় জীবনেই ফিরতে চাইছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত এই নায়িকা।

নির্বাচনের জন্য বেশ ক’দিন রাজশাহীতে ছিলেন তিনি। তবে হারতেই ঢাকায় ফেরেন। সম্প্রতি মাহি বলেন, ‘‘আমি সংসদ অধিবেশন নির্বাচিত হলে, এলাকার মানুষের পাশে থাকা, রাজনৈতিক কর্মসূচি— নানা বিষয়ে ব্যস্ত থাকতে হত। তাই নির্বাচনী প্রচারের সময় বলেছিলাম, নির্বাচনের পর অভিনয় ছেড়ে দেব। আসলে অভিনয় করার সময়ই তো পেতাম না নির্বাচিত হলে। 

এখন এলাকার মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়া ছাড়া তেমন কাজ নেই। আমি আগের মতো সুখে-দুঃখে তাঁদের পাশে থাকতে চাই। তার জন্য সপ্তাহে এক-দু’দিনই যথেষ্ট। বাকি দিন আর কী করব? ঠিক করেছি, বাকি দিনগুলোতে শুটিং-ডাবিং-অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকব।’’

অভিনয়ে ফিরতে চান মাহি খবর ছড়িয়ে পড়তেই নাকি চারটি ছবির প্রস্তাবও পেয়ে গিয়েছেন তিনি। তবে এখনও কোনও চিত্রনাট্যই চূড়ান্ত করতে পারেননি নায়িকা। মাহি বলেন, ‘‘আমি ছবিটিতে অভিনয় করব এটা নিশ্চিত। তবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরই সব কিছু জানাতে চাই।’’ তাঁর ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিটি এখন মুক্তির অপেক্ষায়।