শেয়ার বাজার

জর্জিয়ায় প্রবাসীর লাশ উদ্ধার, সন্দেহে ‘স্ত্রীর পরকীয়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪

জর্জিয়ায় প্রবাসীর লাশ উদ্ধার, সন্দেহে ‘স্ত্রীর পরকীয়া’

বার্তাবেলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজ গাড়ির ভেতর থেকে এক প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। প্রবাসীদের ধারণা, ‘স্ত্রীর পরকীয়া’ ঠেকাতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

তার নাম সাজ্জাদ হাসান (৪১)। ঢাকার সন্তান সাজ্জাদ পেশায় ছিলেন প্রকৌশলী।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে আটলান্টায় সাজ্জাদের বাসার কাছে নিজের গাড়ির ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সেসময় গাড়ির ভেতর একটি চিরকুট পাওয়া যায়, সেটিকে ‘সুইসাইড নোট’ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

দুই শিশু-সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সাজ্জাদ জর্জিয়ার টাকের শহরে বাস করতেন। ২০১৯ সাল থেকে জর্জিয়া পাওয়ার কোম্পানিতে সিনিয়র ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করতেন তিনি।

শুক্রবার বিকালে লরেন্সভিলে ইসলামিক সেন্টার জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিতে আসা প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ধারণা করছেন সাজ্জাদ ‘পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যা’ করেছেন।

তারা অভিযোগ করেন, "গত বছরের অগাস্টে সাজ্জাদের স্ত্রী এমা তানজিমের পরকীয়া হাতেনাতে ধরা পড়ে নিকটজনের কাছে, সে সংবাদ বেশকিছু গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে মনঃকষ্টে ছিলেন সাজ্জাদ। চেষ্টা করেও স্ত্রীকে ফেরাতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।"

জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর শেখ রহমান বলেন, “সাজ্জাদের কাছে থাকা চিরকুট থেকে অজানা অনেক কিছুই হয়তো জানা সম্ভব হবে।”

আরেক প্রবাসী কাজী নাহিদ বলেন, “এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া সমীচীন হবে না। যদি কারো আচরণে সাজ্জাদ অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়ে থাকেন- তাহলে তাকে চিহ্নিত করা দরকার কমিউনিটির স্বার্থে।”

বিনা খরচে তাৎক্ষণিক দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৩

বিনা খরচে তাৎক্ষণিক দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন প্রবাসীরা

বার্তাবেলা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিনা খরচে, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে রেমিট্যান্স পাঠাতে ‘সোনালী এক্সচেঞ্জ মোবাইল অ্যাপ’ চালু করেছে সোনালী ব্যাংক পিএলসি। রাজধানীর একটি হোটেলে প্রধান অতিথি হিসেবে এ অ্যাপের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

সোনালী ব্যাংক পিএলসির সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আফজাল করিমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী।

সোনালী এক্সচেঞ্জ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান, মেরিল্যান্ড, জর্জিয়া ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রবাসীরা বিনা খরচে দ্রুততম সময়ে নিরাপদভাবে দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। এ অ্যাপ ব্যবহার করে রেমিট্যান্স পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% প্রণোদনা ছাড়াও সোনালী ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ২.৫% আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে।

এ অ্যাপ চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় আরও একধাপ এগিয়ে গেলো দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকটি। যা ক্যাশবিহীন ও ঝুঁকিহীন রেমিট্যান্স পাঠাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

নতুন এ অ্যাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টরসহ অন্যান্য নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।



প্রবাসী মোহাম্মদ শিলন মিয়ার দেশে আগমন
পশ্চিম ভবানীপুরে আনন্দের আবহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ জুন, ২০২৬

পশ্চিম ভবানীপুরে আনন্দের আবহ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  প্রবাসী সমাজসেবী মোহাম্মদ শিলন মিয়া দীর্ঘদিন পর নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি অদ্য ৩ জুন ২০২৬ তারিখে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছান। মোহাম্মদ শিলন মিয়া জাতীয় দৈনিক বর্তমান বাংলা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ টিভি-এর জগন্নাথপুর উপজেলা সংবাদদাতা সাংবাদিক সুমন মিয়ার ছোট ভাই। তাঁর দেশে আগমনের খবরে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসে অবস্থান করলেও তিনি সবসময় নিজ এলাকার মানুষের খোঁজখবর রাখেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন। দেশে অবস্থানকালীন সময়েও তিনি এলাকার মানুষের কল্যাণে ও জনসেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী জানান, মোহাম্মদ শিলন মিয়া অত্যন্ত ভদ্র, মেধাবী ও মানবিক গুণসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। তাঁর সুন্দর আচরণ, আন্তরিকতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ইতোমধ্যে এলাকার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। ফলে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের বিশিষ্টজনরা আশা প্রকাশ করেন, দেশে অবস্থানকালে মোহাম্মদ শিলন মিয়া এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক সফলতা কামনা করেছেন


ফ্রান্সে জরিমানা গুনলেন বাংলাদেশি অভিবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৫

ফ্রান্সে জরিমানা গুনলেন বাংলাদেশি অভিবাসী

ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করার দায়ে এক বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে দেশটির ব্রেস্ট শহরের একটি আদালত। ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ফরাসি গণমাধ্যম ওয়েস্ট ফ্রন্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ পাড়ি দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে ফ্রান্সে এসেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন।

যদিও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে সাক্ষাৎকারে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে তার আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওই বাংলাদেশি অভিবাসী ২০২৪ সালের ১২ জুলাই অন্য তিনজন অভিবাসীর সঙ্গে একটি ট্রাকের পেছনে লুকিয়ে ফ্রান্সে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রোস্কফ শহরে সীমান্ত পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন।

ট্রাকটি যুক্তরাজ্য থেকে আসছিলো। চালক ছিলেন রোমানিয়ার নাগরিক। তদন্তকারীদের চালক বলেছিলেন, এক পাচারকারীর চাপে পড়ে অভিবাসীদের ফ্রান্সে নিয়ে আসতে রাজি হয়েছিলেন তিনি। এজন্য তাকে আটশো ইউরো দেওয়া হয়েছিলো।

অনিয়মিত প্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক আদালতে বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণে নিরাপত্তার অভাবে দেশ ছেড়েছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার ধর্মের কারণে ঝুঁকিতে ছিলাম। আমি এখানে শান্তিতে বাঁচতে চাই। বর্তমানে ওই ব্যক্তি বৃহত্তর প্যারিসের সারসেল শহরে একটি এনজিওর সহায়তায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তার ফ্রান্সের কাজের অনুমতি না থাকায় তিনি এখনও কোনো পেশায় যুক্ত হতে পারেননি।

ব্রেস্ট শহরের আদালত তার অনিয়মিত প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও আপাতত কঠোর শাস্তি আরোপ করেনি।

বরং মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে শর্ত সাপেক্ষে ১৫০ ইউরো অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে আর কোনো ফৌজদারি অপরাধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলে তাকে এই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে না।

কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে কঠিন জরিমানার মুখোমুখি করা হতে পারে।

ইতালি, ব্রিটেন ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনিয়মিত উপায়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে সাধারণত জরিমানা আরোপ করে থাকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রোতাইয়ো অনিয়মিতভাবে ফ্রান্সে প্রবেশ ছাড়াও বসবাসকেও অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চান বলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখ করেছেন।

২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে অনিয়মিত উপায়ে বসবাস করা আইনিভাবে সাজার আওতাধীন ছিল।

পরবর্তীতে সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে নির্বাচিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া অলান্দ এ ব্যবস্থাটি বাতিল করে নতুন অভিবাসন আইনের অনুমোদন দিয়েছিলেন। এখনও সেই সিদ্ধান্তটি বহাল রয়েছে।

ডান এবং অতি ডানপন্থিরা অনুমোদনবিহীন বসবাসকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলে আসছে।

ফ্রান্সের ডানপন্থি সংসদ সদস্যরা ২০২৪ সালের জানুয়ারির অভিবাসন আইনে এই ব্যবস্থাটি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাংবিধানিক কাউন্সিল তা বাতিল করে দিয়েছিল।

পরে ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হয়।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের জরিমানা এবং ফরাসি ভূখণ্ড থেকে বিতাড়নের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে জরিমানা আরোপ নিয়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি পরে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস